Ehd e Wafa Review

 Ehd e Wafa যৌন আবেদনহীন আবেদনময়ী সিরিজটির Review

❤
হালকা স্পয়লার।
#লরেঞ্চ কলেজেই পড়তো ৪ বন্ধু ।সাদ,শাহজিন,শেহরিয়ার আর শারিক। কলেজের শৃংখলা ভঙ্গের দায়ে ৪ বন্ধুই কলেজ থেকে বহিস্কৃত হয় ।বহিষ্কার হওয়ার পর ধণাঢ্য পরিবারের শেহজিন রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ে ।তার জিদ আর অহংকার তাকে পাকিস্তানের এমএনএ হতে সাহায্য করে ।এক সময় সে কাশ্মির রক্ষা কমিটির সভাপতি হয় ।
#সাদ ,বাবা আর্মির উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা হওয়ার সুবাধে সে এক সময় পাকিস্তানের ট্যালেন্টেড আর্মি অফিসার হয়ে উঠে এবং কাশ্মির রক্ষা করতে গিয়ে আহত হয় ।
#দরিদ্র পরিবারের সারিক যার পরিবারের সামর্থ্য নেই জিদের বসে কিছু করে ফেলার মত হিম্মত দেখাবে ।সেখানে সারিক নমনীয় হয়ে পড়াশুনা চালিয়ে যায় ।আমাদের তৌহিদ আফ্রিদির বাবার মত মাই টিভি নেই যে নিজের ঢাক নিজেই পিটাবে ।কিন্তু বড্ড শখ দেশ সেরা সাংবাদিক হবে ।শুরু করে সোস্যাল মিডিয়াতে লাইভ করে বিভিন্ন সমস্যা জাতির সামনে তুলে ধরা ।তার ব্যক্তিগত যোগ্যতার কারনে বিভিন্ন টিভি চ্যানেল থেকে অফার আসে এবং এক সময় সে জনপ্রিয় তরুণ টিভি সঞ্চালক হয়ে উঠে ।
#শেহরিয়ার ।যে মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে ।বাবার সাথে কাজ করেই যার সংসার চলে ।কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের সে বন্ধুটির মত যে পকেটের চা খাওয়ার শেষ ৫ টাকা দিয়ে অন্য বন্ধুর সাহায্যে এগিয়ে আসে। চাকরির জন্য বিভিন্ন পরিক্ষা দিতে থাকে কিন্তু চাকরি হয়না । আশা হারায়নি ।কারন তার স্বপ্ন পাকিস্তান সিভিল সার্ভিস অফিসার হবে ।এক সময় তার বন্ধু শেহজিন এমএনএ হওয়াতে তার সহযোগিতায় সে সিভিল সার্ভিস অফিসার হয়ে যায় ।
অথচ দিন শেষে এমএনএ শেহজিন নেতা হিসেবে, সাদ যোদ্ধা হিসেবে , সারিক সাংবাদিক হিসেবে আর শেহরিয়ার সিভিল সার্জন হিসেবে দেশের জন্য এক পয়েন্টে দাড়িয়ে যে অনবদ্য অবদান রেখেছে তা কোন মতেই দৃষ্টিগোচর এড়ায়না ।
#সফলতার চিত্র : হয়তো আমরা কেউ বিসিএস ক্যাডার না হতে পেরে হতাশ হয়ে পড়ছি বা স্বপ্ন পূরণ না হওয়াতে নিজেকে ছোট ভাবছি ।অথচ মিলিয়ে দেখুন তো সাদ,শেহজিন,শেহরিয়ার আর সারিক কাকে আপনি ছোট আর কাকে আপনি বড় বলবেন ? শুধু লেগে থাকলেই হবে ।কাউকে অনুকরণ নয় বরং নিজের স্বপ্নের পিছনে লেগে থাকাই সফলতার মুল মন্ত্র।
#নারী চরিত্র :দোয়া
তার চারিত্রিক সৌন্দর্য আর লক্ষ্যের প্রতি আত্ববিশ্বাস তাকে শেষ অবধি তার ভালবাসার মানুষের কাছে ফিরিয়ে আনে ।দোয়া,দোয়ার বাবা আর সাদ এর মায়ের স্নেহ পূর্ণ শাসন চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় কিভাবে সন্তান ও পিতামাতর সম্পর্ক সুন্দর করতে হয় ।কিভাবে সন্তান তার পিতামাতার কাছে অনেক বেশি অহংকারের বস্তু হয়ে উঠে ।
এই সিরিজটির এন্ডিংটা এত চমৎকার ম্যাসেজ দিয়েছে যে বিমোহিত না হয়ে পারা যায়না ।সেই ৪ জন বন্ধু ৪ জায়গায় সফল ।প্রত্যেকে তার দেশের জন্য সমভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে । এখানে কারো সফলতাকে কোন দিক থেকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই ।
১.সালাম বিনিময়ের ধরন,মুহুর্ত বা কারো রুমে প্রবেশের পূর্বে ইসলামের অনুমতির নেয়ার মাধুর্যতা ফুটে উঠেছে শৈল্পিকভাবে।
২.ভারত যেভাবে সব সময় তার মুভিগুলোতে পাকিস্তানকে নিকৃষ্টভাবে প্রেজেন্ট করে পাকিস্তান সে কাজটা ভ্রাতৃত্ব আর সহমর্মিতার মাধ্যমে জবাব দেয়ার চেষ্টা করেছে ।অভিনন্দনকে আটক আর তাকে মুক্তিতে সে দিকটি সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে ।
এক কথায় অসাধারন একটা ড্রামা ।শেখার মত একটা ড্রামা ।বার বার চোখে জল নিয়ে আসার মত ড্রামা ।



Comments